মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
যেকোনো উৎসবে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে পছন্দ করে বাঙ্গালি। তাই বাঙ্গালি মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব রমজানের ঈদকে ঘিরে ছেলে-বুড়ো সব বয়সের মানুষের মাঝে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে আগ্রহের কমতি থাকে না। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বাহারি পোশাকের পাশাপাশি সাজের অন্যতম অনুসঙ্গ পাদুকা বা জুতা নিয়েও চলে পছন্দের প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে সুন্দর, ফ্যাশনাবল ও আধুনিক ডিজাইনের এই পণ্যটি ক্রয় করতে পারলো, এনিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।
আর তাই ক্রেতাদের এইদিকটি মাথায় রেখে জুতা তৈরির কারখানাগুলিতে শ্রমিক-মালিক, বাজারে পাইকারি আর খুচরা বিক্রেতাদের মাঝে ধুম লেগে যায় জুতা তৈরি, বিক্রি আর বাজারজাতের জন্য।
জানাযায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব জুতা তৈরির অন্যতম বিকাশমান এলাকা। এখানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের প্রায় পাঁচ হাজারের মতো কারখানা গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ৪০টির মতো আছে রপ্তানিমুখি আধুনিক যন্ত্রপতি সমৃদ্ধ বৃহৎ কারখানা। আর এইসব কারখানাকে ঘিরে রয়েছে ৫০টিরও বেশী পাদুকাপল্লী এবং দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধুমাত্র রমজানের ঈদকে উপলক্ষ্য করে এখানে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার জুতা তৈরি ও সারাদেশে বিক্রি হয়ে থাকে।
শহরের মুসলিমের মোড় এলাকার কারখানা শ্রমিক খুরশিদ মিয়া, গাছতলাঘাটের আলাউদ্দিন, লালু-কালু পাদুকাপল্লীীর খবির মিয়া ও গোধূলি সিটি এলাকার রোজিনা বেগম জানান, সারা বছর তাদের কাজের তেমন একটা চাপ না থাকলেও, রমজানের ঈদকে সামনে রেখে বেড়ে যায় বহুগুণ। তারাও তখন বাড়তি আয়ের আশায় দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন। স্থানীয়ভাবে নিজেদের এলাকায় থেকে কাজের যে মজুরি পান, তারা ভালোই চলতে পারেন বলে অভিমত দেন তারা।
জিয়া পাদুকা পাইকারি মার্কেটের আল আমিন মিয়া, বশির পাদুকা কমপ্লেক্সের নজির মিয়া এবং জিসান মার্কেটের রফিকুল ইসলাম জানান, দেশব্যাপী বাজারের ব্যাপক চাহিদা মতো জুতা তৈরি করতে রমজানের আগে থেকেই চলে ব্যাপক প্রস্তুতি বা কর্মযজ্ঞ। হাজার হাজার শ্রমিক তাদের নাওয়া খাওয়া ভুলে দিন-রাত পরিশ্রম করে। আর তারা ব্যস্ত থাকেন উৎপাদিত পণ্যটি দ্রুত ও দেশব্যাপী যেনো বিক্রি করে অধিক মুনাফা আয় করতে পারেন। তাই তাদেরও যেনো এতোটুকু ফুরসৎ থাকে না। তারা জানান, তাদের তৈরি জুতার মান ভালো, টেকশই আর দামে সুলভ হওয়ায়, দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
অপরদিকে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর-এইসব অঞ্চলের পাইকারি ব্যাবসায়ীরা এখানে ছুটে আসেন এখানে জুতা কিনতে। কুমিল্লার ব্রক্ষ্মণবাড়ার ওসমান মাহমুদ, সিলেটের ইকবাল হোসেন ও ময়মনসিংহের নূরুজ্জামান জানান, যাতায়াত সুবিধা, গুণগত মানে সেরা ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় এবং সর্বোপরি এখানকার ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তাদের অনুকুলে থাকায় তারা ভৈরবে আসেন জুতা কিনতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাফিজ আমিন)
সাপ্তাহিক নিরপেক্ষ অরুণিমা, রেজি নং ডি/এ ১৯৬৭
নরসিংদী অফিস :মাতৃছায়া, মরজাল বাস স্ট্যান্ড, নরসিংদী। মোবাইল 0 1711-614044
Copyright © 2026 অরুনিমা. All rights reserved.