মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
স্বল্প পূঁজি ও শ্রমে অধিক মুনাফায় মাশরুম চাষ করে সাড়া ফেলেছেন ভৈরবের মহসিন মিয়া নামের এক খামারি। তাঁর এই সফলতায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছে এই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবজিটির চাষাবাদে। ফলে প্রতিদিন তাদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠছে মহসিনের খামার।
অন্যদিকে মাশরুমভোজীরাও হাতের নাগালে কম দামে তাদের পছন্দের সবজিটি পেতে ছুটে আসছেন খামারটিতে।
এদিকে নতুন চাষী মহসিনের সফলতায় বেশ খুশি স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভৈরবে মাশরুমের ব্যাপক চাহিদার কথা জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগ্রহী নতুন চাষীদের তারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত তাঁরা।
খামারি মহসিন জানান, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টিউন্নয়ন দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় ভৈরবের শিমূলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামের মহসিন মিয়া ১০ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি গত বছরের ১০ মার্চ নিজ বাড়িতে প্রথমে দুইশ স্পুন তৈরি করে মাশরুমের চাষাবাদ শুরু করেন। এতে তিনি অল্পদিনেই বেশ সফলতা পান। পরে তিনি সেটি দুই হাজার স্পুনে উন্নীত করেন। এতে তাঁর গড়ে প্রতিনি ৫ থেকে ৭ কেজি মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে।
প্রতি কেজি মাশরুম তিনি ৩শ টাকা ধরে বিক্রি করছেন। এতে তাঁর প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা। খরচ বাদে নীট মুনাফা হচ্ছে তার এক থেকে দেড় হাজার টাকা। তিনি মনে করেন, এমন মুনাফা আর কোনো চাষাবাদে সম্ভব নয়।
তিনি জানান, তাঁর এই সফলতা দেখে আশে পাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তারা প্রতিদিন তার খামার পরিদর্শন করে খোঁজ-খবর দিচ্ছেন। খামার করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, সুস্বাদু এবং বিভিন্ন রোগের নিরাময় ও প্রতিরোধে এই সবজিটির ব্যাপক চাহিদা আছে ভৈরবের ক্রেতাদের মাঝে। তাই প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে তার খামার থেকে চাহিদা মতো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যে কেউ ইচ্ছে করলে ২০/২৫ হাজার টাকা খরচে এমন একটি খামার করে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। যা অন্যকোনো চাষাবাদে সম্ভব না। তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও জানান।
কথা হয় খামারে আসা আগ্রহী দুই কৃষক এনামুল মিয়া ও খলিল মীরের সাথে। তারা জানান, মহসিন মিয়ার সফলতায় তারা মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তাই খোঁজ-খবর নিতে এসেছেন। আগামীতে তারাও মাশরুমের খামার করবেন।
এদিকে খামারে আসা মাশরুমের ক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, উজির উদ্দিন ও হাফসা বেগম জানান-মাশরুম তাদের পরিবারের প্রিয় একটি সবজি। নূডুলস্, পাকুরা, সুটকি ও মাংসের তরকারিতে মাশরুম দিয়ে রান্না করে তারা খান। এতে পুষ্টির চাহিদা পূরণসহ খাবার হচ্ছে বেশ সুস্বাদু।
এতোদিন তারা ভৈরব বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে ৬শ/৭শ টাকা কেজি দরে কিনে আনতেন। কিন্তু মহসিন মিয়ার খামার থেকে তারা মাত্র ৩শ টাকা কেজি ধরে পাচ্ছেন। এতে তারা অনেক সাশ্রয়ীদরে ও হাতের নাগালে খুব সহজে পাওয়ায় বেশ উপকৃত হচ্ছেন।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টিউন্নয়ন দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় ভৈরবের শিমূলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামের মহসিন মিয়া নামের একজন কৃষককে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পরামর্শ ও সহযেগিতায় তিনি খামার গড়ে তুলে ব্যাপকভাবে সফলতা পান। এখন তার এই সফলতায় অন্যান্যরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মাশরুম অতিপুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। এতে নানা ধরণের ভিটামিন বিদ্ধমান। এ ছাড়া ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও টিউমার নিয়ন্ত্রণে মাশরুম অতুলনীয়।
বর্তমানে সচেতন লোকজনের মাঝে মাশরুমের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ভৈরবেও এর প্রচুর চাহিদা আছে। মহসিন মিয়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এক সময় আশে পাশের জেলাগুলিতেও বিক্রি করতে পারবেন।
নতুন আগ্রহীরা খামার করতে চাইলে তাঁর অফিস সব রকমের সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাফিজ আমিন)
সাপ্তাহিক নিরপেক্ষ অরুণিমা, রেজি নং ডি/এ ১৯৬৭
নরসিংদী অফিস :মাতৃছায়া, মরজাল বাস স্ট্যান্ড, নরসিংদী। মোবাইল 0 1711-614044
Copyright © 2026 অরুনিমা. All rights reserved.