মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
ভাট কেন্দ্রে হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ায় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসলে এবং শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত না হলে আর কখনো ভাত খাবেন না। সেই প্রতিক্ষায় অটল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর আর ভাত খাননি।
পরিবার পরিজন, প্রতিবেশী, দলীয় লোকজন এবং কি জুলাই বিপ্লবের পর শরীফুল আলম নিজেও তার বাড়ি গিয়ে ভাত খেতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তার একটাই প্রতিজ্ঞা-বিএনপি দেশের ক্ষমতায় আসুক। শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হন, তবেই তিনি ভাত খাবেন।
অবশেষে তার দল ক্ষমতায় আসলো। পছন্দের ব্যক্তি এমপি মনোনীত হলেন। এবং মন্ত্রীও হলেন। তাই মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এমপির উপস্থিতিতে শত শত নেতা-কর্মী আর স্থানীয় লোকজনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খেলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদি ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের ৮০ বছর বয়স্ক মো: ইনু মিয়া।
মো: ইনু মিয়া। পড়া-লেখা জানেন না। আর্থিকভাবে চরমভাবে দরিদ্র। ক্ষেতে খামারে দিন মজুরি দিয়ে দিনাতিপাত করেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে খুবই সচেতন। ভীষণভক্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার। কট্টর সমর্থক তাঁদের গড়া দল বিএনপির। তার এই দলীয় প্রীতি গ্রামের সবার জানা। অজানা নয় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদেরও।
জানাযায়, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় জগৎচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান ইনু মিয়া। সেটি চোখে পড়ে স্থানীয় এক আওয়ামী নেতার। সেই নেতা নিশ্চিত জানে, ধানের শীষেই ভোট দেবে এই বৃদ্ধ ইনু মিয়া। তাই দেরি না করে তাকে ভোটারদের লাইন থেকে টেনে বের করে ্এন কিল ঘুষি লাথি মেরে লালিঞ্ছত অপদস্থ করে বের করে দেয়।
অপমানে লজ্জায় সেদিন ইনু মিয়া সেখান থেকে বের হয়ে আসলেও, কঠিন এক প্রতিজ্ঞা করেন। যতোদিন বিএনপি দেশের ক্ষমতায় না আসবে। শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত না হবেন-ততোদিন তিনি আর ভাত খাবেন না। সেই থেকে কেটে যায় দীর্ঘ ১৭টি বছর। এই ১৭ বছর তিনি রুটি, কলা, মুড়ি, চিড়া খেয়ে দিনযাপন করেছেন। স্বজনদের শত চেষ্টায়ও একদিনের জন্যও ভাঙেননি তার শপথ।

ইনু মিয়ার স্ত্রী বৃদ্ধা জো¯œা বেগম জানান, তিনিসহ ছেলে-মেয়েরা কতো অনুনয়-বিনুনয় করেছেন ভাত খাওয়ার জন্য, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। তিনি তার প্রতিজ্ঞায় অটল থাকেন এই দীর্ঘ ১৭ বছর। আর এতে করে তারা মানসিকভাবে অনকে কষ্ট পেয়েছেন। তাকে রেখে ভাত খেতে তাদের মনোকষ্ট হলেও, সহ্য করেছেন।
এলাকার লোকজনও সেই দিনের সেই দু:খজনক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তারাও বহুবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি তার প্রতিজ্ঞায় অটল থাকেন। তারা তার এই দল প্রেমে গর্ববোধ করেন। তাকে অভিন্দন জানিয়ে বলেন, ইনু মিয়ার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিএনপি দেশের শাসন ক্ষমতায় আসীন। শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হয়ে সরকারের মন্ত্রীও হয়েছেন। তবে তারা সেদিন ইনু মিয়ার উপর হামলাকারিদের শাস্তিও দাবি করেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: শরীফুল আলম তার উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে ইনু মিয়াকে সুদীর্ঘ ১৭ বছর পর ভাত খাওয়াতে পেরে গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন-ইনু মিয়ার মতো এমন দলপ্রেমিরা আছে বলেই বিএনপি সকল ধরণের ষড়যন্ত্র নির্যাতনের পরও বার বার দেশের শাসন ক্ষমতায় এসেছে। এইসব লোকেরাই বিএনপির প্রাণশক্তি। তিনি ইনু মিয়াকে সরকারি বিভিন্ন সুবিধাদি প্রদানের ঘোষণা দেন এই সময়।
https://slotbet.online/