ক্রীড়া প্রতিবেদক, আরিফুল ইসলাম আশিক:
এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ২০২৫-এর গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরে নিশ্চিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট এবং ৮ বল হাতে জয় পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার ফোরে পা রেখেছে। ফলে বাংলাদেশও নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং আফগানিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে। দলের ব্যাটসম্যানরা শুরুতে কিছুটা স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখালেও, শেষের দিকে উইকেট হারিয়ে আফগানরা ব্যালান্স রাখতে পারেনি। আলমউল্লাহ ওমরজাই ও নুর আহমেদের মতো বোলারদের কাছ থেকে যথাযথ প্রতিরোধ পায়নি আফগানিস্টানের ব্যাটিং লাইন-আপ। ফলে রান তাড়া করা শ্রীলঙ্কার জন্য লক্ষ্য ১৭০ রানের হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরু হয় দ্রুত। প্রথম দুই ওভারে দল সংগ্রহ করে ২২ রান। তবে তৃতীয় ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাই পাথুম নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে প্রথম প্রাপ্ত উইকেট নেন। নিশাঙ্কা খেলেন মাত্র ৫ বল এবং করেন ৬ রান। পরবর্তীতে কামিল মিশরা সুযোগ নিতে ব্যর্থ হন; ১০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে তিনি আউট হন।
তৃতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিস ও কুশল পেরেরা গড়ে তোলেন ৩৬ বলের ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মুজিব উর রহমানের ডেলিভারিতে কুশল পেরেরা কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে ধরা পড়েন। ২০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। কুশল মেন্ডিস অবশ্য ধৈর্য ধরে খেলে ফিফটি পূর্ণ করেন।
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা ধৈর্য ধরে থাকলেও, ১২ বল খেলে ১৭ রান করে নুর আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। বাকি ইনিংসটিতে দল সমন্বয় ও ধৈর্য ধরে রানের লক্ষ্য পূরণ করে।
শ্রীলঙ্কার এই জয়ের ফলে বাংলাদেশও সুপার ফোরে জায়গা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। টাইগার সমর্থকরা আফগানদের জয় না চেয়ে লঙ্কানদের জয় কামনা করেছিলেন, যা বাস্তবে সফল হয়। বাংলাদেশ এই গ্রুপে সুপার ফোরে থাকায় আগামী রাউন্ডের লড়াইয়ে নিজের শক্তি প্রমাণ করার সুযোগ পাবে।
শ্রীলঙ্কা ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ। কুশল মেন্ডিস ফিফটি সংগ্রহ করে দলের অগ্রগতিতে বড় অবদান রাখেন। চারিথ আসালাঙ্কার নেতৃত্বে দল চূড়ান্ত নির্ভুলতা বজায় রাখে। আফগানিস্তান শেষ ম্যাচে ভালো শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ধৈর্য ও সমন্বয় রাখতে ব্যর্থ হয়
শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশও সুপার ফোরে থাকায় এবার দলের জন্য মূল লক্ষ্য হবে শক্তিশালী খেলা প্রদর্শন ও ফাইনালে পৌঁছানো। আফগানিস্তানকে বিদায় হতে হলেও, তারা আগামী আসরে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার সম্ভাবনা রাখে।
এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার স্পষ্ট দক্ষতা, কৌশল এবং ধৈর্য্য তাদের সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের সমর্থকরা আশা করছেন, টাইগাররা এবার আরও ভালো খেলা দেখাবে। আফগানিস্তানের বিদায় হলেও, ক্রিকেটের উত্তেজনা চলমান থাকবে।
https://slotbet.online/