মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে শংকায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এখানে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হচ্ছেন এই মৌসুমী জ¦রে। ইতোমধ্যে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে সেখানে প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা দুটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য। সেখানেও বেড সংখ্যা রোগীর তুলনায় কম থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে রোগী রাখা হয়েছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালেও।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ভৈরবে চলতি বর্ষা মৌসুমে আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে ডেঙ্গুজ¦র। চিকিৎসকরা বলছেন এবার যেকোনো বছরের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের মাঝে খুব অল্প সংখ্যককে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠালেও অধিকাংশের চিকিৎসা হচ্ছে নিজ বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সমূহে।
ভৈরব আলশেফা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এবি ছিদ্দিক জানান, তিনি তাঁর হাসপাতালের চেম্বারে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জনকে ডেঙ্গু সনাক্ত করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এর অধিকাংশকে তাদের বাড়িতে, তাঁর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এরমধ্যে কমপক্ষে ২ থেকে ৩জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। প্রায় একই অবস্থা স্থানীয় অন্যান্য হাসপাতালগুলিতেও।
তিনি আরও জানান, এই বছরের আক্রান্তদের সবচেয়ে মন্দ দিকটি হলো-খুব দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাওয়া। যা রোগীকে দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও সর্দি, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়া। তিনি এই জ¦র মোকাবেলায় জনসচেনতার উপর জোর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানান, চলতি বছর ভৈরবে অন্যান্য বছরের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। আক্রান্তদের মাঝে আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬জন। তবে আক্রান্তদের মাঝে অধিকাংশরা নিজ বাড়ি এবং প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি মশা নিধনসহ চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বাসা-বাড়িতে গাছের টব, ডাবের খোসাসহ যত্রতত্র পানি জমিয়ে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জ¦র হওয়া মাত্রই চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরবের সর্বত্র ডেঙ্গু জ¦রের এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতেও পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। মশা নিধন বা সচেতনতায় নেওয়া হচ্ছে না কোনো কর্মসূচী।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শবনম শারমিন জানান, মৌসুমের শুরুতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছিলো। পৌর এলাকায় স্প্রেও করা হয়েছিলো। প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শীঘ্রই আবারও নতুন কর্মসূচী নেওয়া হবে। স্প্রে করা হবে প্রতিটি ওয়ার্ডে।
https://slotbet.online/