রিপোর্ট, শামীম আহমেদ :
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব) আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং ভৈরব পৌরসভার প্রশাসকের নিকট সবিনয়ে আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ রোডটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।
ভৈরব পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি কয়েক মাস ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও রাস্তার সংস্কারকাজ আর শুরু হয়নি। ফলে খানাখন্দে ভরা কাদাময় সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “একটি রাস্তা শুধু ইট-পাথরের স্তূপ নয়, এটি একটি জনপদের শিরা-উপশিরা।” সেই শিরা আজ যেন রুদ্ধ হয়ে আছে। অটো, মিশুক, প্রাইভেটকারসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বিশেষ করে জটিল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া বা আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীরাও পড়েছে দুর্ভোগে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাদা আর ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করছে। ভারী কোনো মালামাল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সদাই আনা-নেওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ড্রেনের স্ল্যাবের ওপর দিয়ে হেঁটে চলাচল করছেন—যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় শঙ্কা অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যদি কোনো ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে, তাহলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও এই সড়কে প্রবেশ করতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আত্মীয়-স্বজনরা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এলাকায় আসতে পারছেন না। এতে সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অচলাবস্থায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে জনমনে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে—ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কেন সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হয়নি, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা হোক এবং জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার কাজ শেষ করা হোক।
জনগণের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে দ্রুতই সমাধান আসবে। কারণ একটি উন্নয়নশীল জনপদের অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত সড়ক শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, এটি অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রাণস্রোত। সেই প্রাণস্রোত সচল করাই এখন সময়ের দাবি।
https://slotbet.online/