নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবলিকিয়ান্স ফোরাম অব ভৈরবের আয়োজনে নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভৈরবের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার বিকেলে ভৈরব উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজিব মিয়া।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান, প্রভাষক আবদুল মতিন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক এম. এ. বাকী বিল্লাহ, প্রভাষক এহসানুল হক, প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম এবং প্রভাষক শাহ আলম কিরণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভৈরবের কৃতি সন্তান সিরাজুল হক, রেবতী বর্মন, কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, শিক্ষাবিদ মিন্নাত আলী ও হাজী আসমত আলীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে ভৈরবের যেসব শিক্ষার্থী চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে নিজেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক এম. এ. বাকী বিল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশে মেধাবী ও ব্যক্তিজীবনে সফল মানুষের অভাব নেই, কিন্তু প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিকের বড়ই আকাল। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বড় হও, প্রতিষ্ঠিত হও—তবে তার আগে একজন ভালো মানুষ হও, সুনাগরিক হও এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলো। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে যেন ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেই নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নুষ্ঠানটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাপ্ত হয়। এরপর দ্বিতীয় পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে আয়োজন করা হয় একটি লটারী পর্ব, যা উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি করে।
https://slotbet.online/