মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
ইউটিউবে ভিডিও দেখে শখেরবশে বাড়ির সামনের পতিত জমিতে আঙ্গুর ফলের চাষ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) রমিজ উদ্দিন। এখন সেই শখের আঙ্গুর বাগানই থাকে ভালো মুনাফার হাতছানি দিচ্ছে। আর এলাকার অন্যান্যদের উৎসাহিত করছে চাষাবাদে। বিনোদন দিচ্ছে স্থানীয় সব বয়সি মানুষদের। তাই প্রতিদিন ওই বাগানে ছুটে আসছেন লোকজন। তুলছেন ছবি। করছেন ভিডিও। বানাচ্ছেন রীল। আপলোড করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফরমে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেল্রা গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে পল্লী এলাকার এক অজপাড়া গ্রামের ওই বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে বাহারি রং আর জাতের বিদেশে ফল আঙ্গুর। যা উদ্যোক্তা রমিজ উদ্দিন তো বটেই, চিত্তবিনোদন দিচ্ছে স্থানীয়দেরও।
জানাযায়, ২০২৫ সালে রমিজ উদ্দিন বাংরাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে আসেন। তখন তিনি চিন্তা করেন এই অবসর সময় তিনি কি করে কাটাবেন ? সেই চিন্তা থেকে ইউটিউবে বিভিন্ন চাষাবাদের ভিডিও দেখতে থাকেন। তখন বিদেশী ফল এই আঙ্গুর চাষের প্রতি তার নজর যায়। এর আবাদ বিষয়ে তিনি নানা ধারণা নেন।
পরে তিনি জিনাইদহ, সাতক্ষিরা ও রাজশাহী থেকে ডিক্সন, একেলো, বাইকুনু, ভ্যালেজ ও ব্ল্যাক ম্যাজিক-এই পাঁচ জাতের ৮৪টি চারা সংগ্রহ করেন। প্রতিটি চারার ক্রয়মূল্য পড়ে ৭শ থেকে এক হাজার টাকা। বাড়ির সামনে পতিত ৮শতাংশ জমিতে তিনি মাচা তৈরি করে সেই চারা রোপন করেন। তার অক্লান্ত শ্রম আর যতেœ সেই ছোট্ট চারাগুলি এখন লতা-পাতা-গুল্মে পরিপূর্ণতা পেয়েছে। সেখানে এখন থোকায় থোকায় বাহারি রং আর জাতের সুমিষ্ট আঙ্গুর ঝুলছে। ভালো মুনাফার হাতছানি দিচ্ছে তার চোখে।
তিনি আরও জানান, মাটি তৈরি থেকে চারা সংগ্রহ, রোপন, মাচা তৈরি, শ্রমিকের মজুরিসহ মোট খরচ হয়ছে প্রায় দুই লাখ টাকা। যেভাবে ফলন হয়েছে, তাতে করে প্রথম বছরই তিনি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রি করতে পাবেন বলে আশা করছেন।
একেকটি আঙ্গুর গাছ সাধারণত: ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। আর পরের বছর পরিচর্যা ছাড়া তেমন খরচ-যেমন চারা ক্রয়, যাতায়াত, মাচা তৈরি-ইত্যাদি আর লাগবে। ফলে প্রতি বছরই তিন থেকে ৪ লাখ টাকা মুনাফা পকেটে আসবে তার।
রমিজ উদ্দিন বেকার যুবক আর কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, গতানুগতিক কৃষি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এইসব বিদেশী ফল, যা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে কিনে আনতে হয়-এইসব ফলের চাষ দেশে বাড়াতে হবে। এতে করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় থেকে দেশ বেঁচে যাবে।
বাজারে অধিক দাম এবং চাহিদা থাকায় কৃষক বা উদ্যোক্তারাও লাভবান হবেন। আর দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ তো হবেই। তিনি আগামীতে তার বাগানটি এক একর ভূমিতে সম্প্রসারণ করে ড্রাগনসহ অন্যান্য ফলের আবাদ করবেন বলে পরিকল্পনার কথা জানান।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, তারা তাদের গ্রাম এমনকি জেলার অন্য কোথাও এমন আঙ্গুরের বাগান করতে কাউকে দেখেননি। তাই তারা বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসেন। খুব ভালো লাগে। রমিজ উদ্দিনের এমন সফলতায় তারা বেশ উজ্জীবিত। তারা রমিজ উদ্দিনের কাছ থেকে আঙ্গুর বাগানের বিষয়ে নানা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তার সহযোগিতায় তারাও আগামীতে অনুরূপ বাগান করে আঙ্গুরের চাষাবাদ করবেন বলে জানালেন।
https://slotbet.online/