মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মোমেনা আক্তার নীলিমা নামের ইতালি প্রবাসী এক নারী তার কেনা জমিতে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের বাধার মুখে পড়েছেন। চক্রটি তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে অভিযোগ করেন তিনি।
এঘটনায় আজ সোমবার দুপুরে কমলপুর বাল্লাবিল এলাকায় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে মোমেনা আক্তার নীলিমা জানান, ৪০ বছর ধরে ভোগদখলীয় নিজের জায়গায় নির্মাণ কাজ করতে গেলে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যুচক্র প্রথমে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় স্থাপনা ভাংচুর করেন এবং জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি গ্রামের রফিক, কাউসার, মোজাম্মেল, জাকির, সবুজ সরকার, কবির মিয়া ওরফে পান কবির, ফারুক ও ভূমির দালাল সুমন রেফারি নামের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, গত ২২ জুলাই উল্লেখিতরা রামদা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনার দেওয়াল ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় চক্রটি বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী জহির উদ্দিন তার বাবা। তিনি কমলপুর মৌজার ৩১৬৭ দাগে ১৯৮৬ সালে শামসুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে সোয়া ২১ শতাংশ, ১৯৮৭ সালে আজিজুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে পৌনে ১৬ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে তাদের বোন হামিদা, শহিদা ও রাসিদার কাছ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন।
২০০৮ সালে মোমেনা আক্তার নীলিমা তার বাবার কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং সেখানে মার্কেট ও দোকান নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু তিনি পরিবারসহ ইতালিতে বসবাস করার সুযোগে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটটি তার নিজের নামে দলিলকৃত সাড়ে ৪২ শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভূমিদস্যু চক্রটি গত ১৪ আগস্ট, বৃহস্পতিবার তার ইতালি প্রবাসী স্বামী হাজী মো: জসিম উদ্দিন ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, তার স্বামী হাজী মো: জসিম উদ্দিন উপজেলার গজারিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি দেশে ও প্রবাসে একজন দানশীল, শিক্ষা ও ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে পরিচিত। ইতালির রোম শহরে স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাছাড়া তিনি একটি অনলাইন পত্রিকার চেয়ারম্যান ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য হয়ে সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
চক্রটি তার ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটিয়ে দেশে বিদেশে তাদের মানহানি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/