মোঃ মাইন উদ্দিন :
আজ ১ মে- আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা বিশ্বব্যাপী ‘মে দিবস’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর এই দিনটি এলে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টার দাবিগুলো নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা যতটা জোরালো, শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার আদায় কি ততটা নিশ্চিত হচ্ছে?
শ্রমিক দিবসের ইতিহাস আমাদের সংগ্রামের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলন এক নতুন যুগের সূচনা করে। সেই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সংঘটিত সহিংসতায় বহু শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, বরং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা পুনর্নবীকরণের দিন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। গ্রাম থেকে শহর, কলকারখানা থেকে নির্মাণখাত- প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ঘাম আর শ্রমে গড়ে উঠছে উন্নয়নের ভিত। আমাদের পরিধেয় বস্ত্র, ব্যবহার্য পণ্য, অবকাঠামো- সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রমজীবী মানুষের নিরলস পরিশ্রম। অথচ বাস্তবতা হলো, এই শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা থেকে বঞ্চিত।
অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক মেলে না। সাপ্তাহিক ছুটি বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত থেকে যায়। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হন। ফলে মে দিবসের চেতনা অনেকাংশেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু দিবস পালনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, কঠোর তদারকি এবং মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ। সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন শ্রমিকের ঘাম তার প্রাপ্য মর্যাদা পাবে। তাই আজকের এই দিনে প্রত্যাশা- শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির অধিকার বাস্তবায়নে সবাই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।
শ্রমিক দিবস আসবে, যাবে- কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার যেন আর অবহেলার গল্প না হয়, সেটিই হোক আজ আমাদের অঙ্গীকার।
https://slotbet.online/